রোজাদারের স্বাস্থ্যসম্মত ইফতার

স্বাস্থ্য

স্বাস্থ্য ডেস্কঃ

ব্যক্তিজীবনে রমজান মাসের তাৎপর্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু ধর্মীয় দিক থেকে নয়, রোজা পালন করা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী, এটি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত। রমজান মাসে আমাদের খাবারের রুটিনে অনেকটা পরিবর্তন আসে। সাহ্‌রি, ইফতার ও রাতের খাবার—এই তিন সময় আমরা যে খাবার গ্রহণ করে থাকি, সেই খাবার থেকেই আমাদের দৈনিক ক্যালরি, ভিটামিন ও মিনারেলের চাহিদা পূরণ করতে হয়। তাই রমজান মাসে সাহ্‌রি, ইফতার ও রাতের খাবার—তিনটিই আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনটিই বাদ দেওয়া উচিত নয়।

রমজানে শরীরের সুস্থতা ও পুষ্টি চাহিদার কথা বিবেচনা করলে ইফতার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সাধারণত মুখরোচক বিভিন্ন খাবার দিয়ে ইফতার মেনু তৈরি করে থাকি কিন্তু আমাদের শরীরের পুষ্টি চাহিদার কথা বিবেচনা করি না। একটি পুষ্টিসম্মত ইফতারে সাধারণত কোন ধরনের খাবার থাকা উচিত, সে বিষয়ে জেনে নেওয়া যাক।

কি কি খাবেন ইফতারিতে ?

রমজান মাস এলে বিকাল বেলা থেকেই ইফতারের জন্য নানা খাবার তৈরি ও বিক্রির হিড়িক পড়ে। হরেক রকম ইফতারির পসরা সাজিয়ে দোকানিরা রাস্তার ধারে, ফুটপাতে, অলিতে-গলিতে, হাটে-বাজারে সাজিয়ে রাখে। এসব ইফতারির মধ্যে রয়েছে ছোলা, মুড়ি, পেঁয়াজু, বেগুনি, ডালবড়া, সবজি বরা, আলুর চপ, খোলা খেজুর, হালিম, জালি কাবাব, জিলাপি, বুন্দিয়া ইত্যাদি। আরও রয়েছে বিভিন্ন ফল ও ফলের রস, আখের গুড়ের শরবত, নানা রং মিশ্রিত বাহারি শরবত। তাছাড়া মুখরোচক বিরিয়ানি ও তেহারিতো আছেই।

প্রশ্ন হলো এসব মুখরোচক খাবার স্বাস্থ্য সম্মত উপায়ে তৈরি করা হয়েছে কিনা। ভেজাল তেল, বেসন ও কৃত্রিম রং মেশানো হয়েছে কিনা, সেদিকে নজর দেয়া উচিত। যে তেলে ভাজা হয়, সেই তেল এক বারের বেশি ব্যবহার উচিত নয়। কারণ একই তেল বারবার আগুনে ফুটালে কয়েক ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য তৈরি হয়, যেমন পলি নিউক্লিয়ার হাইড্রোকার্বন, যার মধ্যে বেনজা পাইরিন নামক ক্যান্সার হতে পারে এমন পদার্থের মাত্রা বেশি থাকে। তা ছাড়া অপরিষ্কারভাবে ইফতারি তৈরি করলে পেটের পীড়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সুস্থভাবে বাঁচার জন্য যত্রতত্র খোলা খাবার না খাওয়াই উচিত। খুব কম ফলই পাওয়া যাবে, যা ভেজাল মুক্ত।

শরবতের কথাতো বলাই বাহুল্য। রাস্তা ঘাটে, হাটে বাজারে রকমারি শরবত তৈরি করা হয়। আমাদের জানতে হবে, এসব শরবত যে পানি দিয়ে বানানো হয়, সে পানি বিশুদ্ধ কি না।

তাছাড়া ইফতারের জন্য তৈরি প্রায় সব খাবার তেলও উচ্চ চর্বিযুক্ত। সাধারণত এসব খাবার মান সম্মত তেলে এবং সঠিক নিয়মে ভাজা হয় না, তাই এসব স্বাস্থ্য সম্মত নয়।

একজন রোজাদার ইফতারে কি খাবেন তা নির্ভর করবে তার স্বাস্থ্যের অবস্থা ও বয়সের উপর। পারত পক্ষে দোকানের তৈরি ইফতারি ও সেহেরী না খাওয়াই ভালো। সুস্থ, স্বাস্থ্যবান রোজাদারের জন্য ইফতারিতে খেজুর বা খুরমা, ঘরের তৈরি বিশুদ্ধ শরবত, কচি শসা, পেঁয়াজু, বুট, ফরমালিন অথবা ক্যালসিয়াম কার্বাইড মুক্ত মৌসুমি ফল থাকা ভালো। কারণ ফলে ভিটামিন ও মিনারেল পাওয়া যায়। ফল খেলে কোষ্ঠ কাঠিন্য দূর হয় এবং সহজে তা হজম হয়। রুচি অনুযায়ী বাসার রান্না করা নুডুলসও খেতে পারেন। বেশি ভাজি ভুনা তেহারি, হালিম না খাওয়াই ভালো। কারণ এতে বদহজম হতে পারে। রুচি পরিবর্তনের জন্য দু-একটা জিলাপি খেতে পারেন। তাছাড়া গ্রীষ্মকালীন রমজানে পরিমাণ মতো বিশুদ্ধ পানি পান করা উচিত। এশা ও তারাবির নামাজের পর অভ্যাস অনুযায়ী পরিমাণ মত ভাত, মাছ অথবা মুরগির মাংস, ডাল ও সবজি খাবেন।

ইফতারে সতর্কতা

ইফতারে অতিরিক্ত চিনিযুক্ত শরবত অথবা কৃত্রিম জুস খাওয়া উচিত নয়।

যারা দীর্ঘমেয়াদি কোনো অসুখে ভুগছেন তাঁরা ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে রোজা রাখবেন।

যারা দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিক, কিডনি রোগ, হজমজনিত সমস্যা ইত্যাদিতে ভুগছেন তাঁরা একজন পুষ্টিবিদ অথবা ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ নিয়ে সাহ্‌রি, ইফতার ও রাতের খাবার পরিকল্পনা করবেন। এতে সুস্থ থেকে পুরো রোজা শেষ করতে পারবেন কোনো ধরনের সমস্যা ছাড়া। তথ্য সংকলনঃ অনলাইন।

কী খাবেন না

* ভাজা-পোড়া খাদ্য যেমন পেঁয়াজু, বেগুনি, বেসন দিয়ে তৈরি চপ।

* অতিরিক্ত চিনিযুক্ত শরবত বা কৃত্রিম জুস।

* তেহারি, বিরিয়ানি, কাবাব।

* অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাদ্য।

যেভাবে খেতে হবে

* প্রথমে খেজুর দিয়ে রোজা ভেঙে ১০-১৫ মিনিট অপেক্ষা করে তারপর মূল আহার শুরু করা উচিত। এতে অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা যায়।

* পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

* চেষ্টা করুন পানিযুক্ত মৌসুমি ফল খেতে।

* তাড়াহুড়ো না করে . সময় নিয়ে খাবার গ্রহণ করুন।

0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published.