১৬ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,৩১শে জুলাই, ২০২১ ইং,শনিবার,বিকাল ৫:২০

জুলাই ৭, ২০২১
চলে গেলেন হিন্দি চলচ্চিত্রের এক যুগনায়ক দিলীপ কুমার

ফাইল ছবি। 

নিউজ ডেস্কঃ
চলে গেলেন হিন্দি চলচ্চিত্রের এক যুগনায়ক দিলীপ কুমার ।
কিংবদন্তি এই অভিনেতা আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ভারতের মুম্বাইয়েরে পিডি হিন্দুজা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৮ বছর।
বর্ষীয়ান অভিনেতা দিলীপ কুমারের মৃত্যুতে বলিউডে শোকের ছায়া বিরাজ করছে।যুগের অবসান হয় প্রকৃতির নিয়মেই। কিন্তু মৃত্যুঞ্জয়ী আলো পৌঁছে যায় আগামীতে।

দিলীপ কুমারের দীর্ঘদিনের সহকর্মী তথা অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন শোকপ্রকাশ করেছেন। ট্যুইটারে তিনি লিখেছেন, “একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে হারিয়ে ফেললাম। যখনই ভারতীয় সিনেমার ইতিহাস লেখা হবে, তখন দিলীপ কুমারের আগে এবং দিলীপ কুমারের পরে বলে উল্লেখ করা হবে। তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করছি।”

( গণমাধ্যমে প্রকাশিত )
অভিনেতা দিলীপ কুমার সম্পর্কে শাহরুখ বলেন, “দিলীপ সাবের নিজের আলো আছে… সেই আলোতেই আমরা মজে আছি এত কাল… পথও চলছি।” ছয় দশকের রাজত্বে অর্ধশতাধিক ছবির অভিনেতা দিলীপ কুমার।
কিংবদন্তি তারকা দিলীপ কুমারের আসল নাম মহম্মদ ইউসুফ খান।

তৎকালীন ব্রিটিশ ভারত, বর্তমান পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত পেশোয়ারে একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৯২২ সালের ১১ ডিসেম্বর। বাবা লালা গোলাম সারওয়ার, মা আয়েশা বেগম। বাবা ছিলেন ফল ব্যবসায়ী। ১৯৩০ সালে পরিবার নিয়ে মুম্বইয়ে চলে আসেন তাঁরা। কর্মজীবনের শুরুতে দিলীপ কুমার ছিলেন ক্যান্টিন মালিক, পাশাপাশি শুকনো ফল সরবরাহকারী। ১৯৪৪ সালে ‘জোয়ার ভাটা’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্র জগতে পদার্পণ। ১৯৪৭ ও ১৯৪৮ সালে যথাক্রমে ‘জুগনু’ ও ‘শহিদ’ সিনেমা বাণিজ্য সফল হওয়ার পর আর পিছন ফিরে তাকাননি। ১৯৭৬ পর্যন্ত চুটিয়ে অভিনয় করেন। কয়েক বছর বিরতির পর আবার পুরোদমে। ১৯৯৮ সালে তাঁর শেষ ছবি ‘কিলা’।

দিলীপ কুমার অভিনীত অর্ধশতাধিক ছবির কয়েকটি— ‘শবনম’, ‘আন্দাজ’, ‘বাবুল’, ‘দিদার’, ‘অমর’, ‘দেবদাস’, ‘মধুমতি’, ‘মুঘল-ই-আজম’, ‘গঙ্গা যমুনা’, ‘রাম অর শ্যাম’।

দীর্ঘ অভিনয় জীবনে লক্ষ লক্ষ মানুষের মন যেমন জয় করেছেন, তেমনই পুরস্কার পেয়েছেন অগণিত। হিন্দি চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সর্বকালের অন্যতম সেরা এই অভিনেতা ‘ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ অভিনেতা পুরস্কার’ পেয়েছেন আট বার। ১৯৯৩ সালে সম্মানিত হয়েছেন ‘ফিল্মফেয়ার আজীবন সম্মাননা’-য়। ১৯৯৪ সালে পেয়েছেন ‘দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার’। ভারত সরকার তাঁকে ১৯৯১ সালে ‘পদ্মভূষণ’ এবং ২০১৫ সালে ‘পদ্মবিভূষণ’ সম্মানে সম্মানিত করে।

অভিনয় জীবনে ট্রাজেডির রাজা হলেও দিলীপ কুমারের ব্যক্তিগত জীবন কিন্তু ভালবাসার রঙে রঙিন।খ্যাতির শিখরে থাকা এই অভিনেতার সঙ্গে ঘন ঘনই তৎকালীন সুন্দরী নায়িকাদের নাম জড়িয়েছে। কামিনী কৌশল, মধুবালা, বৈজয়ন্তীমালার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে নানা গুঞ্জন থাকলেও দিলীপ কুমারের সঙ্গে স্থায়ী সম্পর্ক হয় জনপ্রিয় অভিনেত্রী সায়রা বানুর। ১৯৬৬ সালে তাঁদের যখন বিয়ে হয়, দিলীপ কুমার ৪৪, সায়রা বানু ২২ বছরের। জীবনের নানা ভাঙাগড়ায় এই সম্পর্ক ছিল অটুট। দীর্ঘজীবী দিলীপ কুমারকে শেষ বয়সে ভালবাসা ও যত্নে আগলে রেখেছেন সায়রা বানু। এক সময় আসমা-র সঙ্গে দিলীপ কুমারের দ্বিতীয় বিবাহ হলেও সে বিবাহ দ্রুত বিচ্ছেদে পরিণত হয়। অদ্ভুত ভালবাসার দৃষ্টান্ত দেখিয়ে সায়রা বানুই তাঁর সঙ্গে থেকে যান শেষ পর্যন্ত।

0Shares
আরো খবর »

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ ওয়াহিদুজ্জামান
ফোনঃ +৮৮-০১৭৪২৩৪১৫২৩
ইমেইলঃ wzaman288@gmail.com

স্মরনিকা
২৪৭, টুটপাড়া মেইন রোড,
খুলনা-৯১০০, বাংলাদেশ ।
মোবাইলঃ+ ৮৮-০১৯২২৫৫৭৮৯৬
ইমেইলঃ dkhulnanews@gmail.com

কপিরাইট © ২০১৭ |
সর্বস্বত্ব ® স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ডিজিটালখুলনা.কম |
উন্নয়নে Real IT Solution