১৬ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,৩১শে জুলাই, ২০২১ ইং,শনিবার,সন্ধ্যা ৬:২৫

মে ২৭, ২০২১
সরকারের লক্ষ সমগ্র দেশকে রেল যোগাযোগের আওতায় নিয়ে আসাঃ প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্কঃ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দরিদ্রবান্ধব পরিবহন হিসেবে মানুষের যাতায়াত এবং ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণের জন্য যেসব জায়গায় এখনও রেললাইন নেই সেসব স্থানে নেটওয়ার্ক স্থাপন করে সমগ্র বাংলাদেশকে রেল যোগাযোগের আওতায় নিয়ে আসাই তাঁর সরকারের লক্ষ্য।
পাশাপাশি, ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের যেসব স্থানের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল সেগুলো পুনঃস্থাপন করে শিলিগুড়ি পর্যন্ত রেলে যোগাযোগ স্থাপন করতে চায় সরকার।
শেখ হাসিনা মধুখালী-কামারখালী হয়ে মাগুরা পর্যন্ত নতুন রেল লাইন নির্মাণ প্রকল্পেরও ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রাজশাহী হয়ে ঢাকা পর্যন্ত ‘ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।
তিনি আজ অপরাহ্নে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ‘ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন’ এই অনুষ্ঠানে যোগদান করেন।
প্রধানমন্ত্রী সারাদেশে সরকারের ব্যাপক রেলনেটওয়ার্ক স্থাপনের চিত্র তুলে ধরে বলেন, খুলনা-দর্শনা ডুয়েলগেজ ডাবল রেললাইন, সিরাজগঞ্জ-বগুড়া ডুয়েলগেজ রেললাইন, জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ-জামালপুর ডুয়েলগেজ ডাবল রেললাইন এবং আখাউড়া-সিলেট ডুয়েলগেজ রেললাইন আমরা করছি এবং আমাদের আরো পরিকল্পনা রয়েছে সেটারও পদক্ষেপ আমরা নেব।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে লালমনিরহাট থেকে কুড়িগ্রাম হয়ে চিলমারি পর্যন্ত যোগাযোগের ব্যবস্থা নেয়া হবে। বর্তমানে চিলমারী বন্দরের উন্নয়ন কাজ চলছে। তিনি এ সংক্রান্ত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য রেল মন্ত্রণালয়ে প্রতি নির্দেশ দেন।
চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেলের কাজ চলছে অর্থাৎ সমগ্র বাংলাদেশটাকেই আমরা রেলের আওতায় নিয়ে আসছি। তাছাড়া, ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের যেসব স্থানের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল আমরা সেগুলো পুনস্থাপনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দর্শনা-গেদে, বেনাপোল-পেট্রোপোল, রহনপুর-সিংগাবাদ, বিরল-রাধিকাপুর এবং চিলাহাটি-হলদিবাড়ী ৫টি রুটে রেল চলাচল কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে শিলিগুড়ি পর্যন্ত রেলের একটা যোগাযোগ স্থাপন করবো।
তিনি বলেন, তাঁর সরকার ঢাকা-টঙ্গী ৩য় ও ৪র্থ ডুয়েল গেজ রেললাইন এবং টংগী-জয়দেবপুর ডুয়েল গেজ ডাবল রেললাইন, আখাউড়া-লাকসাম ডুয়েলগেজ ডাবল রেললাইন, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ডুয়েলগেজ লাইন নির্মাণ করছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইস্পিড রেলওয়ে নির্মাণ ও সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তবে, এখনকার মাটি কতটুকু স্পিড নিতে পারবে সেটার ফিজিবিলিটি স্টাডি করেই নির্মাণ করা হবে। সবথেকে বড় কথা আমরা যে পদ্মাসেতু নির্মাণ করছি সেখানেও রেললাইন থাকছে।
তিনি বলেন, পদ্মাসেতু পার হয়ে ভাঙ্গা হয়ে একদিকে যেমন যশোর-খুলনা পর্যন্ত যোগাযোগ করা হবে, অপরদিকে সোজা বরিশাল হয়ে একেবারে নতুন সমুদ্র বন্দর পায়রা পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ করা হবে। সেই পরিকল্পনাও সরকার নিয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, বরিশাল অঞ্চলে বড় বড় নদী রয়েছে, খাল বিলে ভরপুর এই এলাকাটাকে বলা হত বাংলার ভেনিস, যেখানে ব্রিটিশ সরকার পর্যন্ত রেল স্থাপনের প্রচেষ্টা নিয়ে একদা ব্যর্থ হয়েছিল। সেই রেলপথ নির্মাণে ব্রিটিশদেরকেই অনুরোধ করা হয়েছে এবং এর সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষার কাজ চলছে।
রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন মাগুরা রেলস্টেশন থেকে অনুষ্ঠানে যোগ দেন এবং সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস গণভবন থেকে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। রেল সচিব সেলিম রেজা স্বাগত ভাষণ দেন।
’৯৬ সালে ২১ বছর পর সরকারে এসেই আওয়ামী লীগ দেশব্যাপী ভেঙ্গে পড়া রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করে উল্লেখ করে দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী বলেন, রেল পরিবহন, আমাদের সড়ক পরিবহন, নৌ পথ এবং আকাশ পথসহ সবগুলো পথকেই আমরা বিশেষভাবে গুরুত্ব দেই এবং রেলওয়ের জন্য আলাদাভাবে একটা মন্ত্রণালয় করে দেই।

সরকার প্রধান বলেন, তাঁর সরকার ক্ষমতায় এসেই বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতুর ওপরে রেল যোগাযোগ স্থাপন করে। সেই সঙ্গে রেলকে পুনরুজ্জীবিত করার কাজ তাঁরা হাতে নেন, যেভাবে জাতির পিতা দেশব্যাপী একটা যোগাযোগ নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। যাতে করে স্বল্প খরচে যোগাযোগ এবং পণ্য পরিবহন সম্ভব হয়।
তিনি বলেন, তাঁদের উদ্দেশ্যই ছিল একদিকে মানুষের ব্যবসা-বাণিজ্য যেমন চলবে তেমনি অন্যদিকে মানুষের যাতায়াতটাও যাতে সহজ হয়। ফলে, রেলকে তাঁর সরকার গুরুত্ব দেয়।
শেখ হাসিনা বলেন, অন্যের পরামর্শ নিয়ে আমরা চলি না। বাংলাদেশটা কিভাবে চলবে, উন্নত হবে, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য কিভাবে পরিবর্তন হবে, মানুষের কিভাবে উন্নতি হবে সেটাকেই আমরা গুরুত্ব বেশি দেই। যে কারণে সমগ্র বাংলাদেশে আজকে আমরা রেল যোগাযোগের ব্যাপক কর্মসূচি আমরা হাতে নিয়েছি এবং যেসব এলাকায় রেল নাই সেখানেও রেল সংযোগ দেয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকারের বঙ্গবন্ধু সেতুতে রেল সংযোগ প্রদানের সাফল্য দেখে যারা একসময় বাংলাদেশে রেল যোগাযোগ বন্ধই করে দিয়েছিল তারাই এখন আবার উদ্যোগ নিয়েছে সেখানে একটি পৃথক রেলসেতু করার। যে কারণে যমুনা নদীর ওপর ডেডিকেটেড রেল সেতু নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করা হয়েছে এবং বর্তমানে সেই কাজও এগিয়ে যাচ্ছে। তথ্যঃ বাসস।

0Shares
আরো খবর »

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ ওয়াহিদুজ্জামান
ফোনঃ +৮৮-০১৭৪২৩৪১৫২৩
ইমেইলঃ wzaman288@gmail.com

স্মরনিকা
২৪৭, টুটপাড়া মেইন রোড,
খুলনা-৯১০০, বাংলাদেশ ।
মোবাইলঃ+ ৮৮-০১৯২২৫৫৭৮৯৬
ইমেইলঃ dkhulnanews@gmail.com

কপিরাইট © ২০১৭ |
সর্বস্বত্ব ® স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ডিজিটালখুলনা.কম |
উন্নয়নে Real IT Solution