৯ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,২২শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং,শুক্রবার,রাত ৩:২০

ডিসেম্বর ১৬, ২০২০
নিয়াজিকে কৌশলে আত্মসমর্পনে বাধ্য করার মুল নায়ক জেকবকে কেউ স্মরণ করেনা

ছবিঃ আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের ছবিতে জেকব ( গোল চিহ্নিত) ।

।। সাংবাদিক আইয়ুব ভূঁইয়া ।।

বিজয় দিবস আসে-যায়। কিন্ত ১৬ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের মুল নায়ককে কেউ স্মরণ করেনা । আলোচনা সভা এবং টক শোতে তার নাম উচ্চারিত হয়না। ফলে আজকের প্রজম্ম তার নামই জানেনা। তার জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকীও নিরবে-নিভৃতেই চলে যায়।বাংলাদেশের গনমাধ্যমে এনিয়ে কোন খবর প্রকাশিত হয়না। গত ৪৯ বছর অকৃতজ্ঞতার মত আমরা এভাবে বিজয় দিবস উদযাপন করে আসছি। ১৯৭১ সালে রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মূল কুশিলব ছিলেন জেনারেল জেকব।

১৬ ডিসেম্বর জেনারেল নিয়াজিকে কৌশলে স্বল্প সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পনে বাধ্য করার ক্ষেত্রে এই ভারতীয় জেনারেলের অসামান্য অবদান রয়েছে। ঐতিহাসিক ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে সেদিন জেনারেল জেকব যদি দুরন্ত কৌশল অবলস্বন না করতেন তাহলে জেনারেল নিয়াজি এত সহজে আত্মসমর্পন করতেননা। সেক্ষেত্রে ঢাকায় আরো ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘাতের আশঙ্কা ছিল। ভারত, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের অনেক সামরিক বিশ্লেষকও একই মতামত প্রকাশ করেছেন। এক সাক্ষাৎকারে জেনারেল জেকব আমাকে বলেন, তিনি যখন জেনারেল নিয়াজির হেড কোয়ার্টারে বসে তাকে আত্মসমর্পনের প্রস্তাব দেন তখন ঢাকার আশপাশে মাত্র তিন হাজার ভারতীয় সৈন্য এসে পৌঁছে। অপর দিকে তখন ঢাকার ভেতরে ২৩ হাজার পাকিস্তনি সৈন্য অবস্থান করছিল।কিন্ত জেকব জেনারেল নিয়াজিকে কৌশলে বুঝিয়ে দিলেন যে ভারতীয় বাহিনী ঢাকাকে ঘিরে ফেলেছে। এর আগে আরেক ভারতীয় জেনারেল নাগরা মিরপুর সেতুর কাছে এসে নিয়াজির কাছে একটি চিরকুট পাঠান।

তাতে লেখা ছিল “Dear Abdullah, I am at Mirpur Bridge. Send your representative. (প্রিয় আবদুল্লাহ, আমি মিরপুর সেতুতে, তোমার প্রতিনিধি পাঠাও)।” নাগরার চিরকুট পাওয়ার পর নিয়াজি দিশেহারা হয়ে পড়েন। নাগরার সংগে আগে থেকেই তার জানাশোনা ছিল।অবিভক্ত ভারতে বৃটিশ সেনাবাহিনীতে তারা কোর্সমেট ছিলেন।নাগরা নিয়াজির হেডকোয়ার্টারে পৌঁছার পর জেকব আত্মসমর্পনে রাজি হতে নিয়াজিকে ৩০ মিনিট সময় দেন। এরমধ্যেই নিয়াজি আত্মসমর্পনে রাজি হয়ে যান। জেকব বলেন, এসময় নিয়াজির দু’চোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে।নিয়াজি পরবর্তিকালে তার আত্মজীবনীতে লিখেছেন, জেকব আমাকে ব্ল্যাকমেল করেছে ।

নিয়াজির ঘনিষ্ঠ সহচর জেনারেল রাও ফরমান আলী তার স্মৃতিকথায় লিখেছেন, ইহুদী জেনারেল জেকবের কুটচালের কাছে হেরে যান নিয়াজি । নিয়াজির পিআরও মেজর সিদ্দিক সালিক তার উইটনেস টু সারেন্ডার বইতে লিখেছেন, কথার মারপ্যাঁচে জেকব নিয়াজিকে শঙ্কিত করে তোলেন । ফলে নিয়াজি আত্মসমর্পনে বাধ্য হন । তবে আমার প্রশ্নের উত্তরে জেকব এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সুস্পষ্ট করে বলেন, ভয়াবহ ব্লাডশেড এড়াতে যা যা করা দরকার আমি তাই করেছি ।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় জেকব ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের চীফ অব জেনারেল স্টাফ ছিলেন। এ কমান্ডের অধিনায়ক ছিলেন জেনারেল অরোরা। আত্মসমর্পন অনুষ্ঠান ছাড়াও জেনারেল জেকব পুরো যুদ্ধের পরিকল্পনা এবং রণকৌশলও প্রনয়ন করেন। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এই বীর সেনানায়কের অবদান চিরস্মরনীয় হয়ে থাকবে।২০০৮ সালের মার্চ জেকবের এ সাক্ষাতকার নেই। তখন আমি ভোরের কাগজের চিফ রিপোর্টার। সরকারের আমন্ত্রনে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিনি ঢাকা এসেছিলেন। বাংলাদেশের একটি খ্যাতিমান প্রকাশনা সংস্থা জেকবের যথাযথ অনুমতি না নিয়েই তার লেখা ‘সারেন্ডার অ্যাট ঢাকা ‘ বইটি প্রকাশ করেছে বলে সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেন |

0Shares

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ ওয়াহিদুজ্জামান
ফোনঃ +৮৮-০১৭৪২৩৪১৫২৩
ইমেইলঃ wzaman288@gmail.com

স্মরনিকা
২৪৭, টুটপাড়া মেইন রোড,
খুলনা-৯১০০, বাংলাদেশ ।
মোবাইলঃ+ ৮৮-০১৯২২৫৫৭৮৯৬
ইমেইলঃ dkhulnanews@gmail.com

কপিরাইট © ২০১৭ |
সর্বস্বত্ব ® স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ডিজিটালখুলনা.কম |
উন্নয়নে Real IT Solution