২৮শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,১১ই এপ্রিল, ২০২১ ইং,রবিবার,সকাল ৬:৪২

জানুয়ারি ৩১, ২০২০
প্রয়াত কবি, স্থপতি ও শিল্প সমালেচক রবিউল হুসাইনের জন্মদিন আজ

।। সাংবাদিক আইয়ুব ভুঁইয়া ।।

ছবিঃ কবি রবিউল হুসাইনের ( ডানে ) সাথে সাংবাদিক আইয়ুব ভুঁইয়া

কবি, স্থপতি ও শিল্প সমালেচক রবিউল হুসাইনের জন্মদিন আজ। বেঁচে থাকলে আজ ৭৭ বছরে পদার্পন করতেন। কিন্ত তার আগেই গত ২৬ নভেম্বর রবিউল ভাই আমাদের চেড়ে চিরতরে চলে যান। দীর্ঘ তিন দশক শিল্প, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বিচরনকালে যে কয়জন বরেণ্য মানুষের সংগে আমার ঘন্ষ্ঠিতা হয় তার মধ্যে রবিউল ভাই অন্যতম। দেশে থাকলে প্রতি সপ্তাহে তার সংগে কোথাও না কোথাও আমার সান্ধ্যকালীন আড্ডা হতো। বয়সে অনেক সিনিয়র হওয়া সত্বেও রবিউল ভাইর সংগে অনায়াসে অনেক কিছু শেয়ার করা যেত। কিন্ত মৃত্যুর পর এই প্রিয় মানূষটিকে আমি শেষ বিদায় জানাতে পারিনি। কারণ আমি তখন দেশের বাহিরে ছিলাম। এই কষ্ট আমাকে অনেক দিন বয়ে বেড়াতে হবে। এদেশের প্রতিটি প্রগতিশীল গনআন্দোলনে তিনি ছিলেন প্রথম সারিতে।

ভাষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার ২০১৮ সালে তাকে একুশে পদকে ভূষিত করে। কবিতায় অবদানের জন্য তিনি ২০০৯ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। তিনি শিল্প-সমালোচক, ছোটগল্পকার, প্রাবন্ধিক ও সংস্কৃতিকর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি এবং একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নির্বাহী সদস্য ছিলেন।

রবিউল হুসাইন ১৯৪৩ সালের ৩১ জানুয়ারি ঝিনাইদহের শৈলকুপার রতিডাঙ্গা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক কুষ্টিয়া জেলায় সম্পন্ন করে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বর্তমান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়) ভর্তি হন। ১৯৬৮ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থপত্য বিভাগ থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর স্থপতি হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।

ছাত্রজীবন থেকেই তিনি নিয়মিত লেখালেখি করতেন। তিনি বাংলা একাডেমির আজীবন সদস্যসহ শিশু-কিশোর সংগঠন কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা, জাতীয় কবিতা পরিষদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর, ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ক্রিটিক অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন।

তার নকশায় তৈরি উল্লেখযোগ্য স্থাপনার মধ্যে রয়েছে, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা পরিষদ ভবন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তি ও স্বাধীনতা তোরণ, ঢাকার সেগুন বাগিচায় কচিকাঁচা ভবন ও মিলনায়তন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ফটক, ভাসানী হল, বঙ্গবন্ধু হল, শেখ হাসিনা হল, খালেদা জিয়া হল, ওয়াজেদ মিয়া সায়েন্স কমপ্লেক্স, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়াম ও একাডেমিক ভবন কমপ্লেক্স।

রবিউল হুসাইনের কবিতা, উপন্যাস, শিশুতোষ ও প্রবন্ধ সম্পর্কিত ২৫টির বেশি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। তার লেখা উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ হলো:
কী আছে এই অন্ধকারের গভীরে, আরও উনত্রিশটি চাঁদ, স্থিরবিন্দুর মোহন সংকট, কর্পূরের ডানাঅলা পাখি, আমগ্ন কাটাকুটি খেলা,বিষুবরেখা,দুর্দান্ত, অমনিবাস, কবিতাপুঞ্জ, স্বপ্নের সাহসী মানুষেরা, যে নদী রাত্রির, এইসব নীল অপমান, অপ্রয়োজনীয় প্রবন্ধ, দুরন্ত কিশোর, বাংলাদেশের স্থাপত্য সংস্কৃতি,নির্বাচিত কবিতা,গল্পগাথা,ছড়িয়ে দিলাম ছড়াগুলি

রবিউল হুসাইন গত ২৬ নভেম্বর মঙ্গলবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে ৭৬ বছর বয়সে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। রবিউল ভাইর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি।

0Shares
আরো খবর »

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ ওয়াহিদুজ্জামান
ফোনঃ +৮৮-০১৭৪২৩৪১৫২৩
ইমেইলঃ wzaman288@gmail.com

স্মরনিকা
২৪৭, টুটপাড়া মেইন রোড,
খুলনা-৯১০০, বাংলাদেশ ।
মোবাইলঃ+ ৮৮-০১৯২২৫৫৭৮৯৬
ইমেইলঃ dkhulnanews@gmail.com

কপিরাইট © ২০১৭ |
সর্বস্বত্ব ® স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ডিজিটালখুলনা.কম |
উন্নয়নে Real IT Solution