জীবাশ্ম জ্বালানি কমিয়ে ক্লিন এনার্জি বাস্তবায়নে সরকারকে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে হবেঃ আলোচনায় বক্তারা

আজ ২৬ জুন আন্তর্জাতিক ক্লিন এনার্জি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে সচেতন নাগরিক কমিটি

(সনাক)-খুলনা, টিআইবি এর আয়োজনে এবং পরিবেশবাদী সংগঠন বেলা, রুপান্তর, ক্লিন,

পরিবর্তন, আইআরভি, পরিবেশ সুরক্ষা মঞ্চ ও ব্লাস্ট এর সহযোগিতায় মানববন্ধন ও আলোচনা সভার

আয়োজন করে। জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার হ্রাস, জ্বালানি খাতে দুর্নীতি বন্ধ এবং সুশাসন

নিশ্চিত করার দাবিতে বিকাল ৩.০০ টায় খুলনা নগরীর উমেশচন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরির সামনে

মানববন্ধনের আয়োজন করে। মানববন্ধন শেষে টেকসই ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে দিবসের উপর আলোচনা

শুরু হয় বিকাল ৪.০০ টায় উমেশচন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরির মিলনায়তনে।

মানববন্ধনে বক্তারা নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বাড়ানোর জন্য সরকারের যে পরিকল্পনা রয়েছে তা

বাস্তায়নের জন্য পরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানির

মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত অগ্রাধিকার খাতে বিবিধ অসঙ্গতি, সুশাসনের ঘাটতি,

অনিয়ম এবং বিদ্যমান দুর্নীতি রোধ করার সাথে সাথে জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমিয়ে

আনতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার উপর জোর দেন।

অন্যদিকে সনাক খুলনার এর সভাপতি অধ্যাপক রমা রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা অনুষ্ঠানে স্বাগত

বক্তব্য প্রদান করেন সনাক-খুলনা এর সহ-সভাপতি রীনা পারভীন এবং ক্লিন এনার্জি ও জীবাশ্ম

জ্বালানির নানা দিক নিয়ে দিবসের উপর মুল উপস্থাপনা করেন

কোস্টাল লাইভলিহুড এন্ড এনভায়রনমেন্ট নেটওয়ার্ক (ক্লিন) এর গবেষণা কর্মকর্তা এস কে রিজন।

এছাড়া দিবসের উপর গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন ক্লিন আপ খুলনা এর সমন্বয়ক এম এন নিলা,

সনাক-খুলনা এর পরিবেশ বিষয়ক উপকমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার আজাদুল হক, সনাক

সদস্য অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির, এবং বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল লইয়ারস এসোসিয়েশন (বেলা)

এর বিভাগীয় সমন্বয়ক মাহফুজুর রহমান মুকুল। আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন রূপান্তর,

আইআরভি, পরিবেশ সুরক্ষা মঞ্চ, ব্লাস্ত এর প্রতিনিধি, সনাক সদস্য, ইয়েস, এসিজি সদস্য

এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণ। আলোচনা সভায় বক্তারা জীবাশ্ম জ্বালানি কমিয়ে ক্লিন

এনার্জি বাস্তবায়নে সরকারকে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা উল্লেখ করে সরকারের জ্বালানি

নীতিমালা পরিবর্তন, জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প যে সকল জ্বালানি রয়েছে, বিশেষকরে সোলার এর

সহজলভ্যতা নিশ্চিত করে তৃণমূল পর্যায়ে এটার সহজগম্যতা নিশ্চিত করে জ্বালানি খাতে সুশাসন

নিশ্চিত করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। সভায় আন্তর্জাতিক ক্লিন এনার্জি দিবসে টিআইবির

নিম্নলিখিত সুপারিশসমূহ প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।

১) রাজনৈতিক দলসমূহকে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ক্রমান্বয়ে বন্ধ করা এবং জ্বালানি মিশ্রণে

নবানয়নযোগ্য জ্বালানির পরিমাণ বৃদ্ধির অঙ্গীকার করতে হবে;

যার মধ্যে থাকবে-

 

➢ জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভরতা থেকে সরে এসে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার

প্রদান করা এবং খসড়া ‘এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার সেক্টর মাস্টার প্ল্যান (ইপিএসএমপি)

২০২৫’ চূড়ান্তকরণের পূর্বে নাগরিক সমাজ, নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনের

অংশগ্রহণে স্বচ্ছ জাতীয় পরামর্শ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পূর্ণভাবে ঢেলে সাজিয়ে চূড়ান্ত

করা;

➢ ২০৫০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরসহ ‘নেট-জিরো’ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে

জ্বালানি খাতে নীতি করায়ত্ত বন্ধ এবং স্বার্থের দ্বন্দ্ব প্রতিরোধসহ এখাত সংশ্লিষ্ট

সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ এবং নাগরিক সমাজের

প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন তদারকি ওনিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ গঠন করা;

 

➢ আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়ন ও নবায়নযোগ্য লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে জীবাশ্ম জ্বালানি

নির্ভর প্রকল্পে অর্থায়ন ও এর ব্যবহার ক্রমান্বয়ে কমানোর জন্য সময়াবদ্ধ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা;

➢ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর-সংক্রান্ত কার্যক্রমে নেতৃত্ব প্রদানের জন্য টেকসই ও

নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা)Ñ কে একটি স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের

মর্যাদা প্রদানসহ এর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা;

➢ নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তির গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য তহবিল বরাদ্দ এবং গবেষণা ও

শিল্পখাতের মধ্যে সহযোগিতা নিশ্চিত করা; এবং

➢ নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সহায়ক

নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা।

২) নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি ২০২৫সহ বিদ্যমান সকল নীতি ও পরিকল্পনায় অভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা

নির্ধারণ করে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ প্রণয়ন

করতে হবে।

৩) নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের প্রসারে নীতিগত অগ্রাধিকার নিশ্চিত করার জন্য এর উৎপাদন ও

সরবরাহ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ একটি উপযুক্ত বিনিয়োগ কাঠামো

প্রণয়ন করতে হবে।

৪) জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য পরিবেশ ছাড়পত্র প্রদান এবং দূষণ ও পরিবেশ-বিষয়ক তদারকিতে

স্বচ্ছ ও যথাযথ-প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

৫) আন্তর্জাতিক, আঞ্চলিক এবং দেশীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পাদিত জ্বালানি খাতের

সকল প্রকল্প প্রস্তাব এবং চুক্তির নথি প্রকাশ করতে হবে।

৬) এনডিসি’র অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে বাতিল হওয়া কয়লা ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস

(এলএনজি) বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণকৃত জমিতে সোলারসহ নাবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প

বাস্তবায়ন করতে হবে।

৭) শিল্প ও আবাসিক গ্রাহকদের নেট মিটারিং সৌর বিদ্যুৎ স্থাপন সহজীকরণ, ফিড-ইন-ট্যারিফ

কার্যকর এবং তাদের উদ্বুদ্ধ করতে প্রণোদনা প্রদান করতে হবে।

৮) নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনকে অগ্রাধিকার প্রদান করতে হবে; স্বার্থের দ্বন্দ্বমুক্ত থেকে

প্রকল্প অনুমোদন ও চুক্তি সম্পাদন করতে হবে।

 

৯) বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন পর্যায়ে সুশাসন ঘাটতি ও দুর্নীতি ঝুঁকি

মোকাবিলায় প্রকল্প অনুমোদন, ভূমি অধিগ্রহণ, চুক্তির শর্ত নির্ধারণ, পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদান

এবং বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জনঅংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। খবরঃ বিজ্ঞপ্তির