খুলনায় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেলেন আরো ৩৫৪টি পরিবার

খুলনায় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেলেন আরো ৩৫৪টি পরিবার

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে ২৬ হাজার ২২৯ টি ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারের মাঝে জমির দলিলসহ গৃহ হস্তান্তর কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী পঞ্চগড় ও মাগুরা জেলার সকল উপজেলাসহ দেশের ৫২টি উপজেলাকে ভূমিহীন-গৃহহীনমুক্ত ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে উপকারভোগীরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে কথা বলেন।

উক্ত ভিডিও কনফারেন্সিং এ খুলনা জেলার রূপসা উপজেলায় ২০টি, তেরখাদায় ৫২টি, ডুমুরিয়ায় ৯০টি, পাইকগাছায় ৪৭টি, দাকোপে ১০টি, কয়রায় ১০টি ও বটিয়াঘাটা উপজেলায় একশত ২৫টি পরিবারের মাঝে জমিসহ ঘর হস্তান্তর করা হয়। খুলনার জেলা প্রশাসক মোঃ মনিরুজ্জামান তালুকদার জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে সরাসরি উপজেলার একশত ২৫টি পরিবারের মাঝে জমির দলিলসহ ঘর হস্তান্তর করেন

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জেলা প্রশাসক বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশের একটি মানুষও ভূমিহীন-গৃহহীন থাকবে না। মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনই ছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লক্ষ্য। তিনি বলেন,  তাঁর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁরই নেতৃত্বে ২০৪১ সালের মধ্যে দেশ উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে। বঙ্গবন্ধু কন্যার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে।

অনুষ্ঠানে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আশরাফুল আলম খাঁন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মমিনুর রহমান প্রমুখ বক্তৃতা করেন। এসময় বীর মুক্তিযোদ্ধা, আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ, উপকারভোগীসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চর পোড়াগাছা গ্রামে ভূমিহীন-গৃহহীন অসহায় ছিন্নমূল মানুষের পুনর্বাসন কার্যক্রমের যাত্রা শুরু করেন। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে জাতির পিতার দেখানো পথেই বঙ্গবন্ধু কন্যা জনবান্ধব কর্মসূচি হাতে নেন। ১৯৯৭ সালে তিনি কক্সবাজার জেলার সেন্টমার্টিনে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেন। এরই ধারাবাহিকতায় সারা দেশের ছিন্নমূল মানুষকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে গৃহীত হয় ‘আশ্রয়ণ প্রকল্প’।

খুলনা জেলায় প্রথম পর্যায়ে জমির দলিলসহ নয়শত ২২টি গৃহ এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে এক হাজার ৩৫১টি গৃহ হস্তান্তর করা হয়। ৩য় পর্যায়ে মোট নয়শত ছয়টি গৃহের বরাদ্দ পাওয়া গেছে। যার মধ্যে ১ম ধাপে হস্তান্তর হয়েছে চারশত ৭৩টি এবং দ্বিতীয় ধাপে তিনশত ৫৪টি গৃহ হস্তান্তর করা হয়। নির্মাণাধীন রয়েছে ৭৯টি গৃহ।

উল্লেখ্য, সারা বাংলাদেশে ১ম, ২য় ও ৩য় পর্যায়ে বরাদ্দকৃত মোট একক গৃহের সংখ্যা এক লাখ ৮৫ হাজার ১২৯টি। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে জমির দলিলসহ ৬৩ হাজার নয়শত ৯৯টি এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ৫৩ হাজার ৩৩০টি গৃহ হস্তান্তর করা হয়। এছাড়া চলমান তৃতীয় পর্যায়ে মোট বরাদ্দকৃত গৃহের সংখ্যা ৬৭ হাজার ৮০০টি। যার মধ্যে গত ২৬ এপ্রিল-২০২২ তারিখে ৩২ হাজার ৯০৪টি গৃহ হস্তান্তর করা হয়। আজ ২৬ হাজার ২২৯ টি ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারের মাঝে জমির দলিলসহ গৃহ হস্তান্তকরা হয়। নির্মাণাধীন রয়েছে আট হাজার ৬৬৭টি।
=০০০=
সুলতান/জিনাত/আতিক/২০২২/১৩:০০ঘন্টা/