কয়রার ভুমি অফিসের অফিস সহায়কের ৪০ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের মামলা

ডিজিটাল খুলনা রিপোর্টঃ
খুলনাস্থ মহেশ্বরীপুর ইউনিয়ন ভুমি অফিস ,কয়রার এক অফিস সহায়ক এম. সোহেল আরমান (বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত), এর বিরুদ্ধে ৪০ লক্ষ টাকার অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগে তরুন কান্তি ঘোষ, সহকারী পরিচালক, দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, খুলনা আজ (০৯.১০.২৩) মামলা দায়ের করেছেন।জাহার মামলা নম্বর সাত।

উক্ত মামলার ঘটনার বিবরণে বলা হয়েছে,
আসামি এম. সোহেল আরমান (এনআইডি নম্বর: ৯১৩৫৮৭১১২৮), অফিস সহায়ক (বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত), মহেশ্বরীপুর ইউনিয়ন ভুমি অফিস, কয়রা, খুলনা প্রেষণে অর্পিত অদ্য দুর্নীতি দমন কমিমন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, খুলনা থেকে দুদক, প্রধান কার্যালয়ের অনুমতি সাপেক্ষে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। সম্পত্তি সেল, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, খুলনা, পিতা : মো: আবুল ফজল, মাতা: নূরজাহান বেগম, স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: কৃষ্ণনগর, ইউনিয়ন: জলমা, উপজেলা: বটিয়াঘাটা, জেলা: খুলনা, বর্তমান ঠিকানা: রোড নম্বর: ০৫, নিরালা আবাসিক এলাকা, ওয়ার্ড নম্বর: ২৪, খুলনা সিটি কর্পোরেশন, খুলনা কর্তৃক জনাব খন্দকার ইয়াসির আরেফীন, জেলা প্রশাসক, খুলনা ও ট্রাস্টি, সৈয়দপুর ট্রাস্ট এস্টেট, খুলনার স্বাক্ষর জাল করে ০৬টি চেকের মাধ্যমে ৭,০০,০০০/- (সাত লক্ষ) টাকা, জেলা প্রশাসকের প্রকৃত স্বাক্ষরিত ৫টি ইস্যুকৃত চেকে টাকার অঙ্কের বাম পার্শ্বে অতিরিক্ত অঙ্ক বসিয়ে মোট ৮,০০,০০০/- (আট লক্ষ) টাকা উত্তোলন এবং জনাব সিফাত মো: ইশতিয়াক ভূঁইয়া, রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর ও সদস্য সচিব, সৈয়দপুর ট্রাস্ট এস্টেট, খুলনার স্বাক্ষর জাল ও ভূয়া চিঠি তৈরি করে এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসি, খুলনা শাখায় সৈয়দপুর ট্রাস্ট এস্টেট, খুলনার নামে রক্ষিত ৭৫,০০,০০০/- টাকার স্থায়ী আমানত (নম্বর: ০১৩১৪-৭৩০০০০০০৯১) হতে ২৫,০০,০০০/- (পঁচিশ লক্ষ) টাকা নিজ (এম. সোহেল আরমান) নামীয় সোনালী ব্যাংক পিএলসি, স্যার ইকবাল রোড শাখা, খুলনার হিসাব নম্বর: ২৭২৭৬০১০০৬৭৯৫ তে স্থানান্তরপূর্বক প্রতারণা, জাল জালিয়াতি ও অপরাধজনক অসদাচারণ, বিশ্বাসভঙ্গ ও অসাধুভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সর্বমোট (৭,০০,০০০+৮,০০,০০০+২৫,০০,০০০) = ৪০,০০,০০০/- (চল্লিশ লক্ষ) টাকা আত্মসাত করে দণ্ডবিধির ৪০৯/ 420 /৪৬৮/৪৭১/৪৭৭(ক) ধারাসহ ১৯৪৭ সালের ২নং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
ঘটনার বিবরণ এই যে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, খুলনার রাজস্ব শাখার ট্রেসার ও সৈয়দপুর ট্রাস্ট এস্টেটের নাজির জনাব আব্দুস শাকুর শেখকে নিয়ে জনাব মো: নাছিমুল হক গাজী কর্তৃক ব্যাংক স্টেটমেন্টের সাথে সৈয়দপুর ট্রাস্ট এস্টেট খুলনার অর্থ উত্তোলন রেজিস্ট্রার যাচাইকালে দেখা যায়, আসামি এম. সোহেল আরমান জেলা প্রশাসক ও ট্রাস্টি, সৈয়দপুর ট্রাস্ট এস্টেট, খুলনা খন্দকার ইয়াসির আরেফীন এর স্বাক্ষর জাল করে নিম্নবর্ণিত ০৬ (ছয়) টি চেকের মাধ্যমে ৭,০০,০০০/- (সাত লক্ষ) টাকা আত্মসাৎ করেন। এছাড়া তিনি প্রতারণা করে জেলা প্রশাসকের প্রকৃত স্বাক্ষরিত চেকের পাতায় টাকার অঙ্কের বাম পাশে বাড়তি সংখ্যা যোগ করে নিম্নবর্ণিত ০৫ (পাঁচ) টি চেকের মাধ্যমে ৮,০০,০০০ (আট লক্ষ) টাকা উত্তোলনপূর্বক মোট ১৫,০০,০০০/- (পনের লক্ষ) টাকা অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বাক্ষর জালিয়াতি করে আত্মসাৎ করেছেন।
এছাড়া আসামি এম. সোহেল আরমান গত ০২/০৫/২০২৩ খ্রি. তারিখে রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, খুলনা জনাব সিফাত মো: ইশতিয়াক ভূঁইয়া এর স্বাক্ষর জাল করে ম্যানেজার, এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসি, খুলনা শাখা বরাবরে ভুয়া চিঠি তৈরী করে সৈয়দপুর ট্রাস্ট এষ্টেট, খুলনার নামে রক্ষিত ৭৫,০০,০০০/- (পঁচাত্তর লক্ষ) টাকার স্থায়ী আমানত (এফডিআর) নম্বর: ০১৩১৪-৭৩০০০০০০৯১ থেকে ২৫,০০,০০০/- (পঁচিশ লক্ষ) টাকা তার নামীয় সোনালী ব্যাংক পিএলসি, স্যার ইকবাল রোড শাখা, খুলনার হিসাব নম্বর: ২727601006795 তে স্থানান্তর করে
আত্মসাৎ করেছেন।
তদন্তকালে বর্ণিত অপরাধের সাথে অন্য কারো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাকেও আইনামলে আনা হবে। জনাব তরুন কান্তি ঘোষ, সহকারী পরিচালক, দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, খুলনাকে মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে।