১২ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ ইং,সোমবার,রাত ১২:৫৩

জানুয়ারি ৩০, ২০২১
ইতিহাসের পাতা থেকেঃ যুদ্ধে বিধ্বস্ত দেশকে নিয়ে এক বছরে ঘুরে দাঁড়ান বঙ্গবন্ধু

বিভিন্ন অর্থনৈতিক খাতে বস্তুগত সম্পদের ক্ষতিপূরণ করাই এই কর্মসূচির মৌল উদ্দেশ্য ছিল। এই কাঠামোর প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল অর্থনৈতিক তৎপরতার হার ১৯৬৯-৭০ সালের স্বাভাবিক ক্ষমতা পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নকালে ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ভিত্তিভূমি প্রতিষ্ঠার প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়। মুক্তিযুদ্ধকালে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবহন, কৃষি এবং বিদ্যুৎ ও শিল্পব্যবস্থা যথাশিগগির স্বাভাবিক করে তোলার কাজ স্বাভাবিক সামগ্রিক পুনর্গঠন পরিকল্পনার মধ্যে অগ্রাধিকার পায়। দেশীয় উৎপাদনক্ষমতা যথাসম্ভব কাজে লাগিয়ে সর্বাধিক পরিমাণে দেশীয় সম্পদ ব্যবহার করে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্য স্থির করা হয়। মূলত এসব উদ্যোগের কারণেই এক বছরের মধ্যেই দেশকে স্বাভাবিক করে নিয়ে আসার পথে অনেকখানি এগিয়ে যান বঙ্গবন্ধু।
যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনর্গঠন:
এক বছরে যোগাযোগ ব্যবস্থার পুনর্গঠন:
– ২৯৫টি রেলওয়ে ব্রিজের মধ্যে ৮২টি স্থায়ী
এবং ১৯৮টি অস্থায়ীভাবে পুননির্মাণ
– ১৬ মাইল ব্রডগেজ রেলপথের
পুরোটাই ব্যবহারযোগ্য করে তোলা হয়
– ৬৩ মাইল মিটারগেজ রেলপথের মধ্যে
৪৩ মাইল ব্যবহারযোগ্য করা সম্ভব হয়
– ২৭৪টি বিধ্বস্ত সড়ক সেতুর মধ্যে
৫৫টি স্থায়ীভাবে মেরামত করা হয়
৯৬টিকে সাময়িকভাবে ব্যবহার উপযোগী করে তোলা হয়
মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসে পরিবহনব্যবস্থা প্রায় সম্পূর্ণভাবেই বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে। এর প্রতিক্রিয়ায় যুদ্ধোত্তর অর্থনীতি প্রায় অচল হয়ে পড়ে। খাদ্যশস্য, শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামাল, কৃষিজাত দ্রব্য এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের আমদানি ও বিতরণ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। তাই পুনর্গঠনকাজে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয় বন্দরের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা বিধান করায়; নৌ-পরিবহন উন্নয়ন এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের যথাসাধ্য চেষ্টা করা হয়। বেসামরিক বিমান চলাচল শুরুর ওপরও সমগুরুত্ব আরোপ করা হয়।
এক্ষেত্রে মাত্র এক বছরের সম্মিলিত উদ্যোগে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়। ৬৩ মাইল মিটারগেজ ও ১৬ মাইল ব্রডগেজ রেলপথের মধ্যে ৪৩ মাইল মিটারগেজ ও ১৬ মাইল ব্রডগেজ রেলপথ ব্যবহারযোগ্য করে তোলা হয়। ২৯৫টি রেলওয়ে ব্রিজের মধ্যে ৮২টি স্থায়ীভাবে এবং ১৯৮টি অস্থায়ীভাবে পুনর্নির্মাণ করা হয়।
ভারত সরকারের সহায়তায় স্বল্পতম সময়ে হার্ডিঞ্জ ব্রিজকে পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়।
রেলওয়ে সেতুর মতো সড়ক সেতুর পুনর্নির্মাণেও এক বছরের মতো যথেষ্ট অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়। ২৭৪টি বিধ্বস্ত সড়ক সেতুর মধ্যে ৫৫টি স্থায়ীভাবে মেরামত করা হয় এবং ৯৬টিকে সাময়িকভাবে ব্যবহার উপযোগী করে তোলা হয়। এর পাশাপাশি সাতটি স্থানে ফেরি সার্ভিস ও ষোলটি স্থানে ডাইভারশন সড়ক নির্মাণ করা হয় এবং বলা বাহুল্য সড়ক পুনর্নির্মাণের কাজ চলতে থাকে।
সমুদ্রবন্দরের মালপত্র ওঠানোর কাজও প্রায় স্বাভাবিক পর্যায়ে চলে আসে এক বছরের মধ্যে। ১৯৭২ সালের মার্চ মাসে চট্টগ্রাম ও চালনা বন্দরে যেখানে পণ্য হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৩১ হাজার টন, সেক্ষেত্রে একই বছর তা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৪ লাখ ৮৯ হাজার টনে। উল্লেখ করা যেতে পারে, যুদ্ধ-পরবর্তী স্বাভাবিক সময়ে পণ্য হ্যান্ডলিংয়ের সর্বোচ্চ মাসিক পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৫০ হাজার টন। পাকিস্তানিরা বন্দরের প্রবেশমুখে জাহাজ ডুবিয়ে এবং বিস্ফোরক মাইন বিছিয়ে রেখে বন্দরকে ব্যবহার অযোগ্য করে রেখে গিয়েছিল। শেখ মুজিবুর রহমানের বিশেষ অনুরোধে সোভিয়েত বিশেষজ্ঞ দল এসে দ্রুত মাইন অপসারণ ও ডুবন্ত জাহাজ সরিয়ে বন্দর ব্যবহারযোগ্য করে তোলার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জলপথের পরিবহনের ক্ষেত্রেও একই রকম পুনর্গঠন কার্যক্রম চলতে থাকে। নদীমাতৃক বাংলাদেশে নৌ-পরিবহনের স্বাভাবিকত্ব ফিরিয়ে আনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন সংস্থা এবং অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন অধিকাংশ নৌবহর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার পর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। এজন্য ক্ষতিগ্রস্ত নৌযানসমূহ মেরামত ছাড়াও বিদেশ থেকে বার্জ, নৌকা, টাগবোট প্রভৃতি জরুরি ভিত্তিতে আনয়ন এবং অবতরণস্থল ও ওয়ার্কশপ তৈরি করা হয়।
তথ্য সূত্র: বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ নির্মাণ (পৃষ্ঠা- ৫১, ৫২, ৫৩, ৫৪, ৫৫, ৫৮)

0Shares

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ ওয়াহিদুজ্জামান
ফোনঃ +৮৮-০১৭৪২৩৪১৫২৩
ইমেইলঃ wzaman288@gmail.com

স্মরনিকা
২৪৭, টুটপাড়া মেইন রোড,
খুলনা-৯১০০, বাংলাদেশ ।
মোবাইলঃ+ ৮৮-০১৯২২৫৫৭৮৯৬
ইমেইলঃ dkhulnanews@gmail.com

কপিরাইট © ২০১৭ |
সর্বস্বত্ব ® স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ডিজিটালখুলনা.কম |
উন্নয়নে Real IT Solution